Uncategorized

যে ১৪ জেলার ওপর তা’ণ্ডব চালাতে পারে সুপার সা’ইক্লোন আম্পান!

দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়ার পর সুপার সাইক্লোনের শ’ক্তি নিয়ে উপকূলে দিকে এগিয়ে আ’সছে ‘আম্পান’। আর উপকূল অতিক্রম করে সমতলে ওঠে আসার সময় চালাতে পারে ১৪ জে’লায় তা’ণ্ডব। মঙ্গলবার (১৯ মে) আবহাওয়াবিদ মো. আবদুর রহমান খান স্বাক্ষরিত আম্পানের ২৩ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এমনটিই জা’নানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংল’গ্ন এলাকায় অব’স্থানরত সুপার সাইক্লোন আম্পান উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে একই এলাকায় অব’স্থান করছে। এটি মঙ্গলবার সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৯০ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৪০ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে, মােংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৮৫ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৭৭৫ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অব’স্থান করছিল।

উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে খুলনা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে ১৯ মে শেষরাত হতে ২০ মে বিকেল অথবা সন্ধ্যার মধ্যে বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম ক’রতে পারে।

সুপার সাইক্লোন কে’ন্দ্রের ৯০ কিমির মধ্যে বর্তমানে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২২৫ কিমি, যা দ’মকা অথবা ঝড়াে হাওয়ার আ’কারে ২৪৫ কিমি পর্যন্ত বাড়ছে। সুপার ঘূ’র্ণিঝড় কে’ন্দ্রের কাছে সাগর খুবই বিক্ষু’ব্ধ রয়েছে।

এ অব’স্থায় মােংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরগুলোকে ৭ নম্বর বি’পদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

উপকূলীয় জে’লা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরােজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভােলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর এবং তাদের অদূ’রবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ৭ নম্বর বি’পদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৬ নম্বর বি’পদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জে’লা নােয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার তাদের অদূ’রবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ৬ নম্বর বি’পদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

ঘূ’র্ণিঝড় এবং অমাবস্যার প্র’ভাবে উপকূলীয় জে’লা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরােজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভােলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নােয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূ’রবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বা’ভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪ থেকে ৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলােচ্ছাসে প্লাবিত হতে পারে।

ঘূ’র্ণিঝড় অতিক্রমকালে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরােজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভােলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নােয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম জে’লা সমূহ এবং তাদের অদূ’রবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোতে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণসহ ঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৬০ কিমি বেগে দ’মকা অথবা ঝড়াে হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

ঘূ’র্ণিঝ’ড়ের কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গ’ভীর সাগরে অব’স্থানরত সব মাছ ধ’রার নৌকা ও ট্রলারকে অতিসত্ত্বর নি’রাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দে’শ না দেওয়া পর্যন্ত নি’রাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

বঙ্গোপসাগরের কোনো ঝ’ড়ের কে’ন্দ্রে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২২০ কিলোমিটারের ওপরে ওঠে গেলে, তাকে সুপার সাইক্লোন বলা হয়। আর প্রাক বর্ষা মৌসুমে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া এ শতাব্দির প্রথম সুপার সাইক্লোনের জায়গা দখল করে নিলো আম্পান।

ভারতের আবহাওয়া অধিদফতর জা’নিয়েছে, এটি পশ্চিমবঙ্গে দিঘা এবং বাংলাদেশের হাতিয়ার দ্বীপের মাঝামাঝি কোনো স্থান দিয়ে উপকূল অতিক্রম করবে বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যা নাগাদ।

ভারতের আবহাওয়া বিজ্ঞানী আনন্দ কুমা’র দাশ জা’নিয়েছেন, মঙ্গলবার বিকেলের মধ্যেই সুপার সাইক্লোনের (সর্বোচ্চ গতিবেগ ২৫৫ থেকে ২৬৫ কিমি) তীব্রতা কমবে। তবে শেষরাতের দিকে উপকূলে আছড়ে পড়লে এটির তীব্রতা কিছুটা কমে অতি প্রবল (সর্বোচ্চ ২১০ থেকে ২৩০ কিমি) ঘূ’র্ণিঝ’ড় হিসেবে তা’ণ্ডব চালাবে। এরপর আরও শ’ক্তি ক্ষয় করে উপকূল অতিক্রম করে সমতলে ওঠে আসার সময় বুধবার সন্ধ্যার দিকে এটির গতি নেমে আসবে ১৭০ কিমিতে (খুব প্রবল ঘূ’র্ণিঝ’ড়)। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার নাগাদ ঝ’ড়টি শান্ত হয়ে নি’ম্নচা’পে প’রিণত হবে।

বর্তমানে ঝ’ড়টির যে অভিমুখ রয়েছে বাংলাদেশের ময়মনসিংহ অঞ্চলের ওপর দিয়ে সীমান্তের ওপারে আসাম পর্যন্ত নির্দে’শ করছে। আম্পানের প্র’ভাবে সারাদেশে ব’জ্রঝ’ড়-ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের আশ’ঙ্কা করা হয়েছে। সূত্র: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles

Back to top button
Close
%d bloggers like this: