Uncategorized

বৈরুত বিস্ফোরণ: রাজনৈতিক সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করছে অনেকে

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে এ পর্যন্ত ১৩৭ জন নিহত এবং প্রায় পাঁচ হাজার ব্যক্তি আহত হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। এ ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানী ছাড়াও বিরাট আর্থিক ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে যা দেশটির অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বৈরুতের মেয়র বলেছেন, এ বিস্ফোরণে কোটি কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে বৈরুতের গভর্নর মারওয়ান আবুদও বলেছেন, এ ঘটনায় এক হাজার থেকে দেড় হাজার কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে।

বৈরুতে বিস্ফোরণের ব্যাপারে কয়েকটি দেশের নীতি ও আচরণকে দু’দিক থেকে মূল্যায়ন করা যায়। প্রথমত, বেশিরভাগ দেশ এ ঘটনাকে খুবই অমানবিক হিসেবে অভিহিত করেছে এবং প্রয়োজনীয় সাহায্য সহযোগিতা করতেও প্রস্তুতির ঘোষণা করেছে তারা। ইরান, ইরাক, কাতার, সিরিয়া ও রাশিয়ার মতো দেশগুলো বিস্ফোরণের ঘটনাকে খুবই অমানবিক হিসেবে অভিহিত করেছে। এরইমধ্যে ইরানের একটি ত্রাণবাহী বিমান বৈরুত বিমানবন্দরে  পৌঁছে গেছে। ইরাকের তেলমন্ত্রী এহসান আব্দুল জব্বার ইসমাইলও লেবাননে চিকিৎসক দল পাঠিয়ে বলেছেন, ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বেশ কিছু তেলবাহী লরি লেবাননের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছে।

অন্যদিকে, এমন কিছু দেশ আছে যারা বৈরুতে বিস্ফোরণের ঘটনায় রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে।

ইরানের ত্রাণবাহী বিমান

প্রথমেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথা বলা যায় যিনি এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের চেষ্টা করছেন। তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে বৈরুতের বিস্ফোরণকে অত্যন্ত ভয়ংকর অভিহিত করে একে নাশকতামূলক হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন। যদিও লেবানন সরকার জানিয়েছে বন্দরে সংরক্ষিত কিছু রাসায়নিক দ্রব্যে আগুন লাগার ফলেই এতোবড় বিস্ফোরণ ঘটেছে।

এমনকি আমেরিকাকে ছাড়িয়ে সৌদি আরবও এ থেকে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে। যদিও সৌদি সরকার লেবাননকে সহায়তা করার জন্য প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে কিন্তু দেশটির সরকার নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমগুলো দাবি করেছে, রিয়াদ, দুবাই ও বৈরুত কর্তৃপক্ষ এ ঘটনার জন্য হিজবুল্লাহর দিকেই ইঙ্গিত করেছেন। আল আরাবিয়া ও আল হাদস্‌ টিভি চ্যানেল তখনই দাবি করেছিল বন্দরে হিজবুল্লাহর অস্ত্রাগার থেকেই এ বিস্ফোরণ ঘটেছে। এমন সময় তারা এসব দাবি করছে যখন দক্ষিণ বৈরুতের শিয়া মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় এ বিস্ফোরণ ঘটেনি বরং সুন্নি অধ্যুষিত এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে যেখানে হিজবুল্লাহদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে।

তবে ইহুদিবাদী ইসরাইল এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে নীরব রয়েছে। ইসরাইলের সাবেক পার্লামেন্ট সদস্য ও জাতীয়তাবাদী দলের নেতা মশে ফিলিন ইহুদিদের একটি উৎসবের প্রাক্কালে বৈরুত বিস্ফোরণের ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এদিকে হিজবুল্লাহ বিরোধী মহল রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এ নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। লেবাননে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্দার জাস্পকিন বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত হাজার হাজার মানুষের এ বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সুযোগ নেয়া বা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করা কারোরই উচিত হবে না।

জাতিসংঘে রুশ প্রতিনিধিও লেবাননকে সহায়তা দেয়ার ব্যাপারে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেওর দাবিকে লোক দেখানো অভিহিত করে বলেছেন, আমেরিকা যদি সত্যিই লেবাননকে উপকার করতে চায় তাহলে অবিলম্বে ওই দেশটির বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া উচিত যাতে লেবানন সরকার পুনর্গঠন করতে পারে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles

Back to top button
Close
%d bloggers like this: