অর্থনীতিসরকার

বেকা-য়দায় সরকার হঠাৎ একটি উ-দ্ভট সিদ্ধান্ত


গার্মেন্টস মালিকরা সরকারের সঙ্গে একের পর এক প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছেন, মিথ্যাচার

করছেন। তাদের পোশাক কারখানাগুলো খোলা রাখার জন্য হেন অপকর্ম নেই, যেটা

তারা করছেন না। সর্বশেষ তাদের মিথ্যাচার হলো স্বল্প পরিসরে

কারখানাগুলো চালু করা। এই পোশাক কারখানাগুলো চালু করার ক্ষেত্রে তারা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আশ্বাস দিয়েছিলেন শুধু ঢাকা এবং এর আশেপাশের শ্রমিকদের দিয়ে

সীমিত আকারে কারখানা চালু করা হবে। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তারা যে চরম

মিথ্যাচার করলো তার প্রমাণ পেতে ২ ঘন্টাও অপেক্ষা করতে হয়নি। গার্মেন্টসের

ম্যানেজাররা বিভিন্ন জায়গায় শ্রমিকদের ফোন করে হুমকি ধ্মকি দেন এবং এই মর্মে

শাসান যে, যদি কাজে যোগদান না করেন, তাহলে তাদের চাকরি চলে যাবে। চাকরি

হারানোর ভয়ে এবং বেতন পাওয়ার আশায় শ্রমিকরা তড়িঘড়ি করে ঢাকায় ছুটতে

থাকেন। এটিই ছিল সরকারি আ-ইনের লঙ্ঘন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে যে গার্মেন্টস

মালিকরা অঙ্গীকার করেছিলেন তার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

কিন্তু লক্ষ্যণীয় যে, গার্মেন্টস মালিকরা এতই ক্ষমতাবান যে সরকার বারবার তাদের কাছে

পরাজিত হচ্ছে। সরকার তাদের ইচ্ছার কাছে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছে। এর

সর্বশেষ উদাহরণ যে, গার্মেন্টস মালিকরা ঠিকই সারাদেশ থেকে শ্রমিকদের ঢাকা নিয়ে

আসছেন। এখন সিদ্ধান্ত দেওয়া হলো যে, ফ্যাক্টরি আইডি কার্ড ছাড়া তাদের ঢাকায়

প্রবেশ নিষিদ্ধ। তাহলে প্রশ্ন ওঠে যে, ফ্যাক্টরি আইডি কার্ড থাকলে কি করোনার

সংক্রমণ হবে না?

ফ্যাক্টরি আইডি কার্ড থাকলেই কি তিনি করোনা মুক্ত হয়ে গেলেন? ফ্যাক্টরি আইডি

কার্ড থাকলে কি তিনি করোনা সংক্রমিত করবেন না? ফ্যাক্টরি আইডি কার্ড থাকা মানেই

কি তিনি করোনা ছড়ানোর সব আশঙ্কা থেকে পরিত্রাণ পেলেন? গার্মেন্টস মালিকদের

কাছে অসহায় আত্মসমর্পন করে এরকম উদ্ভট সিদ্ধান্ত জনমনে প্রশ্ন তুলেছে যে কেন

গার্মেন্টস মালিকদের কাছে সরকার এত অসহায়?

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) রাজপরিবারের সঙ্গে যুক্ত প্রিন্সেস হেন্দ আল কাসেমি গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের টাইমলাইনে বিদ্বেষপূর্ণ ও ইসলামোফোবিক মন্তব্যের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে যাচ্ছেন।

এসব মন্তব্যের বেশিরভাগ আসছে আরব আমিরাতে কর্মরত ভারতের হিন্দু ধর্মাবলম্বী নাগরিকদের কাছ থেকে। -সাউথ এশিয়ান মনিটর, সিএনএন, নিউজ এইট্টিন

এতে উদ্বিগ্ন দেশটিতে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত পবন কাপুর। ভারতীয় নাগরিকদের সম্বন্ধে বলেন যে, বৈষম্য আমাদের নৈতিক বুনন ও আইনের শাসনের পরিপন্থী এবং আমিরাতে বাস করা ভারতীয়দের এটা মনে রাখতে হবে।
বিশেষ করে কিছু ব্যক্তির মন্তব্যের কারণে একই সঙ্গে বেদনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই রাজকন্যা।

তিনি বলেন, আমিরাত ও ভারতের সম্পর্ক শত বছরের পুরনো। কিন্তু এই প্রবণতা নতুন। ভারতীয়দের কাছ থেকে আগে কখনো এমন বিদ্বেষমূলক আচরণ আমরা পাইনি।

প্রিন্সেস হেন্দ যদিও স্বীকার করেন যে, কিছু ব্যক্তির এ ধরনের মন্তব্য আরব আমিরাতে কর্মরত বিপুল সংখ্যক ভারতীয়ের প্রতিনিধিত্ব করে না কিন্তু তিনি বেশ কায়দা করে ভারতীয়দের জন্য একটি হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন এভাবে: শুধু মুসলিম ও খ্রিস্টান আমরা কাদেরকে আমিরাতে জায়গা দেবো সেটা বেছে নিতে ভারত কি আমাদেরকে বাধ্য করছে? আমরা এই প্রশ্ন তুলিনি।

আমাদের কাছে তারা সবাই ভারতীয়। তারা ভারতীয় মুসলমান বলে আমরা শুধু তাদের সঙ্গে কাজ করবো, এভাবে কাউকে আমরা আলাদাভাবে ভাগ করিনি। দূতাবাসের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী আরব আমিরাতে প্রায় ৩৫ লাখ ভারতীয় রয়েছে, যারা দেশটির জনসংখ্যার তিন ভাগের এক ভাগ। ভারতীয়রাই সেখানে সবচেয়ে বড় বিদেশী জাতিগোষ্ঠী।

প্রিন্সেস হেন্দ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আমি যদি প্রকাশ্যে বলি যে ভারতীয় হিন্দুদের আমিরাতে মেনে নেয়া হবে না, তাহলে ভারতীয়দের কেমন লাগবে? প্রতিবছর আমিরাত থেকে প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স ভারতে যায় – গত বছরও গিয়েছে।

ভাবুন, সেটা বন্ধ হয়ে গেলে কেমন হবে? ভারতীয়রা এখানে কঠোর পরিশ্রম করে। আমি মনে করিনা তারা ওইসব লোককে পছন্দ করবে যারা তাদের ভুল প্রতিনিধিত্ব করছে। তিনি কোন রাজনৈতিক ব্যক্তি নন উল্লেখ করে প্রিন্সেস বলেন যে এ কারণে তার উদ্বেগ নিয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে কথা বলেননি। তবে তার সঙ্গে

সাবেক ভারতীয় রাষ্ট্রদূত নবদীপ সুরির যোগাযোগ রয়েছে। তিনিও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন যে প্রিন্সেসের বক্তব্য ‘জোরালো ও স্পষ্ট’।

প্রিন্সেস বলেন, তার দেশে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য অবৈধ। তিনি ঘৃণা থামাতে তার কণ্ঠ সরব করে যাবেন। কারণ তিনি ভারতের বন্ধু।



Source link

Tags

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
%d bloggers like this: