Uncategorized

ফের বেজিং-কে চাপ দিল্লির, ‘কালার টিভি’ আমদানি করবে না ভারত – Kolkata24x7

নয়াদিল্লি: চিনের অ্যাপ নিষিদ্ধ করে আগেই বড়সড় পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। এবার ফের কোপ চিনা বাণিজ্যে। এবার বাধা রঙিন টিভি রফতানিতে। রঙিন টিভি আমদানি করার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ চাপাল ভারত। বৃহস্পতিবারই এমন নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। মূলত দেশের সংস্থাগুলির ব্যবসা বাড়াতে ও চিন থেকে আমদানি বন্ধ করতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

দেখা গিয়েছে চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ভারতে মোট ৭৮১ মিলিয়ন ডলারের কালার টিভি আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই এসেছে ভিয়েতনাম ও চিন থেকে। ভিয়েতনাম থেকে ৪২৮ মিলিয়ন ডলার ও চিন থেকে ২৯২ মিলিয়ন ডলারের কালার টিভি এসেছে এক বছরে। মূলত চিন, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, তাইল্যান্ড এবং জার্মানি থেকে কালার টিভি আমদানি করে ভারত।

এদিন প্রকাশ করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, রঙিন টিভি রফতানিকারী সংস্থাগুলিকে লাইসেন্স দেওয়ার জন্য ‘ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফরেন ট্রেড’-এর থেকে আলাদাভাবে অনুমোদন পেতে হবে।
সেই বিধিনিষেধের তালিকায় আছে ৩৬ থেকে ১০৫ সেন্টিমিটার স্ক্রিন বিশিষ্ট টিভি সেট এবং ৬৩ সেন্টিমিটারের কম দৈর্ঘ্যের স্ক্রিন বিশিষ্ট লিকুইড ক্রিস্টাল ডিসপ্লে (এলসিডি) টিভি সেট।

গালওয়ান ভ্যালিতে ভারত-চিন সংঘাতে ভারতের ২০ জওয়ান শহিদ হওয়ার পর থেকেই চিনের অর্থনীতি ও বাণিজ্যে কোপ বসানোর চেষ্টা করছে ভারত। চিনের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য যতটা সম্ভব কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে ভারত। গত এপ্রিলেই ‘ফরেন ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট’-এর নিয়মে বদল এনেছে ভারত সরকার। সেখানে বলা হয়েছে, যেসব দেশের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত রয়েছে, সেখান থেকে বিনিয়োগ আসার ক্ষেত্রে কেন্দ্র আলাদাভাবে ক্লিয়ারেন্স দেবে।

চিনা সংস্থার সঙ্গে রেল ও রোড টেন্ডারও বাতিল করে দিয়েছে ভারত।

বিষয়টি নিয়ে প্যানাসনিক ভারতের প্রেসিডেন্ট এবং সিইও মণীশ শর্মা জানান, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের ফলে উচ্চমানের টিভি সেট পাবেন ভারতীয় গ্রাহকরা। তিনি বলেন, ‘দেশের মধ্যে যে টিভির বিভিন্ন সামগ্রী যুক্ত করা হয় (অ্যাসেম্বল), তার উপর অবশ্যই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এই সিদ্ধান্ত। প্রথমসারির সংস্থাগুলির এমনিতেই দেশে উৎপাদন এবং অ্যাসেম্বলিং কারখানা রয়েছে। তাই এটা আমাদের উপর প্রভাব ফেলবে না।’ তাঁর মতে, নয়া সিদ্ধান্তের ফলে পদ্ধতিগত প্রভাব পড়বে।

ইতিমধ্যেই প্রথম দফায় ৫৯টি ও পরের দফায় ৪৭টি চিনা অ্যাপ ব্যান করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে টিক টক, উই চ্যাট সহ একাধিক জনপ্রিয় অ্যাপ। এরপরই ভারতকে সেইসব অ্যাপ নিষিদ্ধ করার প্রসঙ্গে সতর্ক করে চিন।

চিনের তরফ থেকে একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে ভারতকে। বলা হয়েছে, যাতে এই ব্যান ভারত তুলে নেয়। ভারতের উচিৎ এই ভুল শুধরে নেওয়া, এমনটাই বলা হয়েছে সেই বার্তায়। চিনা দূতাবাসের মুখপাত্র জি রং বলেন, ভারতের উচিৎ WeChat অ্যাপ ব্যান করে দেওয়া ঠিক নয়। তা তুলে নেওয়া উচিৎ।

এদিকে, ট্যুইটারে চিনা রাষ্ট্রদূত লিখেছেন, ভারত-চিনের অর্থনীতি একে অপরের পরিপূরক, একে অপরের উপর নির্ভরশীল। তাই জোর করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করতে চাইলে তাতে হার হবে। তিনি আরও বলেন, চিন মোটেই ভারতের জন্য কৌশলগত দিক থেকে কোনও হুমকির কারণ নয়। দুই দেশ যে একে অপরকে ছাড়া চলতে পারবে না, সেই বিষয়টা অপরিবর্তিত থাকছে।

প্রশ্ন অনেক: তৃতীয় পর্ব



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles

Back to top button
Close
%d bloggers like this: