দেশ বার্তা

নতুন করে “সাধারণ ছুটি” আর বাড়ছে না! ⋆ BirohiMon


সাধারণ ছুটি না রেখে মানুষকে সচেতন করে স্বাভাবিক কাজ’কর্ম ও জনজীবন সচল করার কথা ভাবছে সরকার। ক্ষমতা’সীন দলটির নেতারা বলছেন, মুখে মাস্ক পরা, সাবান দিয়ে ঘন ঘন হাত ধোয়া ও সামা’জিক দূর’ত্ব বজায় রাখার অভ্যা’স সৃষ্টি করার মাধ্য’মে মানুষের মাঝে করোনা আত’ঙ্ক কমে যাবে।

আর দেশের অর্থ’নীতির চাকা ও সব শ্রেণী-পেশার মানুষের জীবন-জীবি’কা সচল রাখার জন্য পর’বর্তী মেয়াদে সাধারণ ছুটি বাড়ানো নিয়ে চিন্তা ক’রা হচ্ছে।

সরকারি দলের নেতারা বলছেন, মানুষ’কেও বাঁচা’তে হবে, অ’র্থনী’তির চাকাও সচল রাখতে হবে। এ ধারণা থেকে নভেল ক’রোনা’ভাইরাস মোকা’বেলায় সা’ধারণ ছুটি পরিহার করার পথে যেতে চায় শেখ হা’সিনার নেতৃ’ত্বাধীন সরকার।

সাধারণ ছুটি আরো দীর্ঘমেয়াদি হলে অর্থনীতির ওপর দারুণ’ভাবে প্রভাব পড়বে। তাই সবকিছু থামিয়ে দিয়ে আর বেশিদিন থাকতে’ চাচ্ছে না সরকার। এরই মধ্যে সরকার সীমিত আকারে বিভি”ন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, পোশাক কারখানাও খুলে দিয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে খোলা হচ্ছে দোকানপাটও।

সরকারের এক’জন মন্ত্রী বলেন, সাধারণ ছুটি বা লক’ডাউন দিয়ে লাগাম টানা সম্ভব হচ্ছে না নভেল ক’রোনাভাইরা’সের। আবার সাধারণ জন’গণকেও ঘরে আটকে রাখা যাচ্ছে না। অন্যদিকে বিশ্বের অন্য দেশগু’লোও এখন লকডাউনের বিকল্প ভাবতে শুরু করেছে।

উন্নত দেশগুলোও অর্থ’নীতির হুম’কির কথা ভাবতে শুরু করেছে। সেই চিন্তা থেকেই ইতালি, স্পেনসহ কিছু দেশ এরই মধ্যে লকডাউন শিথিলও করেছে। নভেল ক’রোনাভা’ইরাস মোকাবেলায় এখনো কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কার সম্ভব হয়নি। ফলে এ দুর্যোগ আমাদের আরো ভোগাবে। এ পরিস্থিতিতে সরকা’রকে করোনা মোকা’বেলায় নতুন কিছু ভাবতে হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের সভাপ’তিমণ্ডলীর একজন সদস্য বলেন, নভেল করোনাভাইরাস মো’কাবে’লায় সাধারণ ছুটি বা লকডাউনের বিকল্প পদ্ধতি কী হতে পারে—সে প্রক্রিয়া নিয়ে ভাবছে সরকার।

মানুষ’কে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে অভ্যস্ত হতে হবে। সচেতন, সতর্কভাবে স্বাভাবিক কাজে নিশ্চয়ই ফিরতে হবে। তিনি বলেন, পৃথিবী থেকে নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদু’র্ভাব কখন বিদায় নেবে সেটা নিয়ে স’ন্দেহ আছে। কারণ এখনো এর কোনো প্রতিষেধক আ’বিষ্কার হয়নি।

কয়েকটা আ’বিষ্কা’রের কথা বললেও সেটার এখন পর্যন্ত কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই। বিগত শতাব্দীতে যে স্প্যানিশ ফ্লু মহা’মারীর প্রতি’ষেধক আ’বিষ্কা’র হতে প্রায় ১০ বছরের মতো সময় লেগেছিল। এখন বিজ্ঞান এগিয়ে গেছে, তাই হয়তো কম সময় লাগবে। কিন্তু আমাদের তো থেমে থাকলে চলবে না। সচেতন হয়ে সবাইকে নিজের কাজ করতে হবে। জীবন-জীবি’কা চালু রাখতে হবে।


ছুটি
সরকারের আরেকজন মন্ত্রী বলেন, নভেল ক’রোনাভা’ইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত এর ভয়া’বহতা কম-বেশি থাকবে। তত’দিন মানুষকে ঘরে বসিয়ে রাখা যাবে না। ফলে সর’কারকে ভাবতে হচ্ছে বি’কল্প উপায়। আপাতত স্বা’স্থ্যবিধি মানা, সতর্কতা অবলম্বন করে মানুষকে

ভিডিওটি দেখুন

চল’তে অভ্যস্ত করে তুল’তে হবে। এজন্য টেলি’ভিশন, বেতা’রসহ সব গণমাধ্যমে সচেত’নতা’মূলক অনুষ্ঠান বেশি প্রচার করা হবে। স্বাস্থ্য’বিধি মেনে চলতে প্রয়োজনে বাধ্য করার প্রক্রি’য়াও শুরু করা হতে পারে। আ’ক্রা’ন্ত ব্যক্তি’কে সঙ্গরো’ধ করে রাখা অব্যাহত থাকবে। মানু’ষকে আ’টকে রেখে নভেল করো’নাভা’ইরাস প্রতিরোধ কোনোভাবেই সম্ভব নয়। পুষ্টিমা’ন নিশ্চিত করে খাবার গ্রহণের বিষয়ও প্রচার করা হবে সরকা’রের পক্ষ থেকে।

প্রধানম’ন্ত্রীর কা’র্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, করোনা মোকা’বেলায় কী করা যায়, তা নিয়ে প্রতিনি’য়ত ভাব’ছেন প্রধা’নমন্ত্রী। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে কী উ’পায়ে পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলা করা হচ্ছে, সে বিষয়গুলোও তিনি পর্যালো’চনা ক’রছেন। এছাড়াও দেশী-বিদেশী গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন, সাময়িকী, গবেষ’কদের গবেষণার অগ্রগতি সবকিছু নিবিড়’ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি নিজেও বিকল্প উপায়ে কীভাবে করোনা মোকা’বেলা করা যায়, সে পথ বের করার চেষ্টা করছেন। সাধার’ণ ছুটি অব্যাহত রেখে মানুষকে ঘরে আ’টকে রেখে আসলে সে অর্থে স’মাধান সম্ভব হচ্ছে না। তাই স্বাস্থ্য’বিধি মেনে সচে’তনতা, সত’র্কতা অব’লম্বন করে মানুষকে আ’স্তে আস্তে স্বা’ভাবিক অবস্থায়, স্বাভা’বিক পরি’বেশে ফিরিয়ে আনার পক্ষে প্রধানমন্ত্রী। তিনি মনে করেন, অর্থনী’তিও বাঁচাতে হবে, বাঁচা’তে হবে মানুষকেও। এ দুটি বিষয় বিবেচনা করেই ক’রোনা মো’কাবেলার পথ ভা’বছে সরকার।

আওয়ামী লীগের সভাপ’তিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান বলেন, বাংলা’দেশ একটা গণতান্ত্রিক দেশ। চীন, সৌদি আরব কিংবা ইরানের মতো নয়। এদেশে কোনো কিছু চাপিয়ে দেয়া যায় না। সরকার গত দেড় মাসের মতো লকডাউন করে জনগণকে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করেছে। এর অংশ হিসেবে মানুষকে বলা হচ্ছে, নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে বাঁচতে হলে ঘরে থাকুন। আর যদি বের হতেই হয়, তাহলে সব ধরনের সুরক্ষা নিয়ে বের হন। গত দেড় মাস ধরে এটা অভ্যাস করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। অনেকেই সচেতন হচ্ছে, আবার কেউ কেউ হচ্ছে না।

তিনি বলেন, এখন কি কাউকে পিটিয়ে এসব বিষয় মানাবে নাকি? অতীতে দেখা গিয়েছিল, বিভিন্ন সরকার বিশেষ পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে পিটিয়েছে। এমনকি ভারতেও এবার পেটানো হয়েছে। কিন্তু আমরা কাউকে এমন নির্দেশ দিইনি। লাঠি দিয়ে পেটানো হয়নি। মানুষকে বোঝানো হয়েছে।

আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর কোনো দেশেরই এ ভাইরাস মোকাবেলায় প্রস্তুতি ছিল না। ইউরোপ, আমেরিকার তুলনায় আমাদের অবস্থান ভালোই আছে। সরকার এ দেড় মাস ব্যবহার করেছে নিজের ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি করার জন্য। টেস্ট বৃদ্ধি পাচ্ছে, আলাদা হাসপাতাল তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সুবিধা আমরা বৃদ্ধি করেছি। সরকার তার চেষ্টা করছে। এখানে আমাদেরও চেষ্টা করে যেতে হবে।

ফারুক খান বলেন, আমাদের দেশে ঈদকেন্দ্রিক একটা বড় ব্যবসা হয়। গত রমজানের ঈদেও প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছিল। এ ব্যবসাটা শুধু ব্যবসায়ীদের হয় না, সবাই সুবিধা ভোগ করে। তাই সবার কথা চিন্তা করে স’রকার বলছে সামনে ঈদ আছে। তোমরা খুলতে পার। তবে সেটা অবশ্যই সুরক্ষা নিশ্চিত করেই খুলতে হবে। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কেই এ সুর’ক্ষা ব্যবস্থা নিতে হবে। আমি মনে করি, সরকার এটা ভালো করেই পর্যবেক্ষণ করছে।

তিনি বলেন, আমি মনে করি আ’গামী দুই থেকে তিন বছর পৃথিবীতে স্বা’ভাবিক জীবনযাপন হবে না। মানুষ বের হবে মা’স্ক পরে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখবে। সবাইকে অ্যাডজাস্টমেন্ট করে চলতে হবে। এখন আমাদের প্রযু’ক্তিকে ব্যবহার করে জীবনকে আরো সহজ করতে হবে। এরই মধ্যে আমাদে’র চলতে হবে, অগ্র’সর হতে হবে। অর্থনৈতিক কম’কাণ্ড চালু করতে হবে। সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল

নিচের ভিডিওটি মিস করেন নি তো?


Post Views:
১৭



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles

Back to top button
Close
%d bloggers like this: