Uncategorized

দুনিয়া কাঁপানো সেই ৯টি ছবি

এ নয়টি ছবি প্রতেকের মনে গভীরভাবে আচ ফেলে যায়। এর এক একটা ছবিতে এতো পরিমাণ অব্যক্ত কথা, বেদনা লুকিয়ে রয়েছে যা চাইলে হাজার লাইন লিখেও ব্যক্ত করা যাবে না।

চলুন দেখে নেয়া যাক ছবিগুলো:

১. ভূপালের গ্যাস ট্রাজেডিঃ

১৯৮৪ সালে ভা’রতের মধ্যপ্রদেশের ভূপালে একটি কী’টনাশক তৈরির কারখানায় বি’স্ফোরণ ঘটলে বিষাক্ত মিথাইল আইসোসায়ানাইড গ্যাসে আ’ক্রান্ত হয়ে ৫ লাখ ৫৮ হাজার ১২৫ জন মানুষ আ’হত হন, নি’হত হন প্রায় ১৫ হাজারের মত মানুষ। ফটোসাংবাদিক পাবলো বার্থোলোমিউ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এ ছবিটি তারই তোলা যা দুর্ঘ’টনায় নি’হত শি’শুটিকে মাটিতে সমাহিত করার আগ মূহুর্তে তোলা হয়।

যেমন, তাসলিমা আখতারের তোলা প্রচ্ছদের এই ছবিটি। দুইজন মানুষের পরস্পরকে জড়িয়ে ধরে বেঁচে থাকার যে ভীষণ আকুতি উঠে এসেছে এই ছবিতে, শত বলেও তা ব্যাখ্যা করা যাবে না। কি করে মৃ’ত্যু হলো তাদের? তারা কি একজন আরেকজনকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছিলেন? কেমন ছিলো তাদের জীবন, তাদের স্বপ্ন? না জানি কী’ ভীষণ ভালোবাসায় মৃ’ত্যুর পূর্ব মুহূর্তে পরস্পরকে আঁকড়ে ধরেছিলেন তারা!

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এখনো আ’লোচিত হয়ে যাচ্ছে ম’র্মস্প’র্শী এই নিদারুণ করুন ছবিটি।

২. ক্যান্সারে আ’ক্রান্ত ছোট্ট মে’য়েটিঃ

এ ছবিটি একটি ছোট মে’য়ের, যে কিনা ক্যান্সারে আ’ক্রান্ত ছিল। কেমোথেরাপির কারণে তার মা’থার চুল সব পড়ে যায়। আয়নাতে কি মে’য়েটি তার মনের ইচ্ছাটুকুই ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করছিল? মে’য়েটি এখনো বেঁচে আছে কিনা আমাদের জানা নেই।

৩. মানুষ মানুষের জন্যঃ

উগান্ডাতে ১৯৮০ সালে চলছিল প্রচণ্ড দুর্ভিক্ষ। অনাহারের শিকার এক শি’শুর হাত পরম মমতায় ধরে রেখেছেন দাতব্য সংস্থার একজন কর্মী। ম’র্মস্প’র্শী এ ছবিটি তুলেছেন মাইক ওয়েলস।

৪. প্রিয় শিক্ষকের জন্য বেদনার সুরঃ

ডিয়েগো ফ্র্যাজাও টোরকোয়াটো নামে ১২ বছরের এই ব্রাজিলিয়ান ছে’লেটি তার প্রিয় শিক্ষকের শেষকৃত্যানুষ্ঠানে ভায়োলিন বাজাচ্ছে, চোখে বেয়ে ঝরে পড়ছে তীব্র ক’ষ্টের অশ্রু। সেই শিক্ষক ছোট এ ছে’লেটিকে সঙ্গীতের সাহায্যে দারিদ্র ও সংঘাত থেকে মুক্তি পেতে সহযোগিতা করেছিলেন।

৫. ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার থেকে পড়ন্ত মানুষঃ

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর স’ন্ত্রাসী হা’মলায় বি’ধ্বস্ত হয় যু’ক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ার। পুরো ভবনে আ’গুন ধরে গেলে অনেকেই নিচে ঝাঁপ দেন জীবন বাঁ’চানোর আশায়। সেরকমই এক হতভাগ্য ব্যক্তির ছবি তুলেন এপি’র আলোকচিত্রশিল্পী রিচার্ড ড্রিউ। বলাই বাহুল্য যে মানুষটি বাঁ’চাতে পারেন নি নিজের জীবন।

৬. থাইল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়ে গণহ’ত্যাঃ

থাইল্যান্ডের নির্বাসিত স্বৈরশাসক ফিল্ড মা’র্শাল থামম কিটিকাচর্নের দেশে ফিরে আসার কথা শুনে বি’ক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠে পুরো থাইল্যান্ড। থামাসাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাও এর ব্যতিক্রম ছিল না। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বি’ক্ষোভরত ছাত্রদের উপর গণহ’ত্যা চালানো হয় ১৯৭৬ সালের ৬ অক্টোবর। বহু ছাত্রকে গু’লি করে, পি’টিয়ে বা আ’গুনে পুড়িয়ে মা’রা হয়। সেরকমই একটি ঘটনার ছবি তুলেছেন নীল ইউলেভিচ, যেটা ১৯৭৭ সালে পু’লিৎজার প্রাইজ পায়।

৭. সুদানের ভ’য়াবহ দুর্ভিক্ষ ১৯১৩ :

বিশ্ববিখ্যাত ও একইসাথে প্রবল সমালোচিত এ ছবিটি ১৯৯৩ সালে ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। আর এর মাধ্যমেই আলোতে আসেন আলোকচিত্রশিল্পী কেভিন কার্টার। সুদানের দুর্ভিক্ষের সময় তোলা এ ছবিটি ১৯৯৪ সালে জিতে নেয় পু’লিৎজার পুরস্কার। এতে দেখা যায়, দুর্ভিক্ষে খেতে না পেয়ে জীর্ণ-শীর্ণ একটি শি’শু মাটিতে মূমুর্ষ অবস্থায় পড়ে আছে, আর খুব কাছেই একটি শকুন বসে আছে। যেন কখন শি’শুটি মা’রা যাবে ও এটা শি’শুটিকে খেয়ে ফেলতে পারবে তারই অ’পেক্ষা।

ছবিটি ভ’য়াবহ বিতর্ক তৈরি করে। কথা উঠে যে, ছবি তুলে শি’শুটিকে বাঁ’চানোর কোনো চেষ্টা কেভিন করেছিলেন কি না? কেভিনের নিজেরও মনে হতে শুরু করে যে, তিনি হয়তো চাইলে শি’শুটিকে বাঁ’চাতে পারতেন। তীব্র মানসিক যন্ত্র’ণা থেকে ১৯৯৪ সালে তিনি আত্মহ’ত্যা করেন। যদিও শি’শুটি সেসময় মা’রা যায় নি, আরো বেশ কিছুদিন বেঁচে ছিল। নিয়ং কং নামের ছবির ছে’লেটি মা’রা যায় ২০০৭ সালে।

৮. যখন সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়ঃ

১৯৮৫ সালে কলম্বিয়াতে আরমেরো নামে ছোট গ্রামের পাশেই নেভাদো দেল রুইজ নামে আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। পুরো গ্রামের উপর এর প্রতিক্রিয়া ছিল ভ’য়াবহ। এতে ব্যপক ভূমিধ্বসের সৃষ্টি হয়। অমায়রা স্যানচেজ নামে ১৩ বছরের এই মে’য়েটি একটি বি’ধ্বস্ত ভবনের নিচে আ’ট’কা পড়ে। উ’দ্ধারকর্মীদের সব চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে টানা ৬০ ঘণ্টা আ’ট’কে থাকার পর সে মা’রা যায়।

৯. রানা প্লাজায় ধসঃ

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিলে সাভা’রের রানা প্লাজা ধ্বসের ঘটনায় মুহূর্তেই মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে শোক এবং উৎকণ্ঠা। ধ্বংসস্তূপ থেকে আ’হত-নি’হত মানুষে বের করে আনার পুরো প্রক্রিয়াটা চলেছে দিনের পর দিন আর তার মাঝে দিয়ে আম’রা সবাই একটু একটু করে উপলব্ধি করেছি নিদারুণ সেই বিভীষিকা। ব্যাপারটি এতই গুরুতর যে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের মানুষের কাছে এর সংবাদ চলে যায়, সেই সাথে এই ধ্বংসস্তূপ থেকে তোলা বিভিন্ন ছবি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles

Back to top button
Close
%d bloggers like this: