Uncategorized

ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে মৎস্য চাষীদের ক্ষতি কমাতে করণীয়

…….ইব্রাহিম খলীল

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেই তৈরি হয়েছে আরেক দুর্যোগের আশঙ্কা। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় আম্ফান এখন ‘অতি প্রবল’ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। মাছ চাষীদের (বিশেষ করে উপকূলের) সকল খামারিদের নিজ নিজ ঘেরের বড় মাছ থাকলে বিক্রয় করতে বা নিরাপদ আশ্রয়ে রাখতে বলা হচ্ছে।

প্রবল ঝড়ে অনেক খেত্রে বাধ ও নেট ভেঙে যেতে পারে। তাই শক্তভাবে প্রস্তুতি নিন। বড় গাছ পড়ে কিছু খতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে গাছের ঢাল অনতিবিলম্বে কেটে দিন। হালদার রেনু সংগ্রহকারীরা অনুগ্রহ করে ঝড়ের সময় বা আগেই নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাবেন। কোনো অবস্থায় রিস্ক নেবেন না। নিজেদের নৌকা নিরাপদ আশ্রয়ে বেধে রাখুন। দুর্যোগের সময় কোন এলাকার লোক কোন আশ্রয়ে যাবে, গবাদিপশু কোথায় থাকবে, তা আগে ঠিক করে রাখুন এবং জায়গা চিনে রাখুন।

আপনার খাদ্যের ঘরগুলোর অবস্থা পরীক্ষা করুন। আরও মজবুত করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। যেমন: মাটিতে খুঁটি পুঁতে দড়ি দিয়ে ঘরের বিভিন্ন অংশ বাঁধা। বড় ধরনের বিপদ দেখলে আপনার গরু-ছাগল নিকটস্থ উঁচু বাঁধে অথবা উঁচু স্থানে রাখুন। কোনো অবস্থায়ই গোয়ালঘরে বেঁধে রাখবেন না। কোনো উঁচু জায়গা না থাকলে ছেড়ে দিন, বাঁচার চেষ্টা করতে দিন। ঝড় ও অধিক উচ্চতার জোয়ারের পানিতে পুকুর, ঘের, দিঘি ও জলাশয়ের পানি উপচে পড়ায় ভেসে যায় মাছের খামার। তাই নীচু এলাকায় ঘেরের নিরাপত্তার ছেয়ে মাছ স্থানান্তর বা বিক্রয় করাই উত্তম।

বৃষ্টির পানিতে জলাশয় ভরপুর হয়ে গেলে নালা করে বা অন্য যেকোন পদ্ধতি অবলম্বন করে পানি বের করে দিতে হবে। বন্যার পানিতে জলাশয় ডুবে যাচ্ছে কিন্তু সব মাছ বা কোন মাছই ধরতে পারেননি এমন চাষী ঐ জলাশয়ে বাঁশ, ডালপালা ইত্যাদি দিয়ে ঝোপ বা ঝাটা তৈরি করে দিতে পারেন, যাতে ঐ জলাশয়কেই মাছ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। ফলে পানি কমে যাওয়ার পর থেকে যাওয়া মাছসহ আরও দেশী মাছ/ছোট মাছ পাওয়া যাবে। এতে করে ক্ষতি অনেকটাই লাঘব হবে।

যদি সম্ভব হয় তবে জলাশয়ে সহজলভ্য কিছু খাবার অনিয়মিতভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে পরিমাণে বেশি নয়। ফলে খাবারের আকর্ষণে মাছ ঐ জলাশয়ে অবস্থান করবে এবং অন্যান্য দেশী মাছ প্রবেশ করবে। এটা পরীক্ষালব্ধ এবং অনেকটাই ফলপ্রসু। খাদ্য হিসেবে দেয়া যেতে পারে শামুক যা তখন সবখানেই পাওয়া যাবে। এছাড়া কেঁচো, অনিয়মিতভাবে খৈল ও চালের কুড়া ব্যবহার করা যেতে পারে। খেয়াল রাখতে হবে খরচ যেন বেশি না হয়।

ভারি বৃষ্টি/কয়েকদিন ধরে চলমান বৃষ্টি কিন্তু বন্যার পানিতে পুকুর একেবারে ভেসে যায় নি এমন এলাকার জন্য জরুরি অক্সিজেন ট্যাবলেট ও চুন সংরক্ষণ করতে হবে। মাছে মড়ক শুরু হতে পারে। তাই আগে থেকেই ব্যবস্থা নিন। জরুরি যে কোন প্রয়োজনে বাংলাদেশ ফিস ফারমার্স এসোসিয়েশন এর ফেসবুক গ্রুপে অথবা সরাসরি ০১৭১২ ০১৩৪৫৪ নাম্বারে যোগাযোগ করুন। অথবা যেকোনো সময় উপজেলা মৎস্য দপ্তরে যোগাযোগ করুন।

(লেখক- সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ ফিস ফারমার্স এসোসিয়েশন )



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles

Back to top button
Close
%d bloggers like this: