Uncategorized

অসুস্থতার কারণে বাসে মৃ’ত্যু, করোনা সন্দেহে নামিয়ে দেয়া হল লা’শ

ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা আহাদ পরিবহনে বাড়িতে ফেরার পথে মা’রা যান অসুস্থ মিজানুর রহমান (৫০)। এতে করে করোনায় আ’ক্রা’ন্ত সন্দেহে মৃ’ত মিজানুরের লা’শ ও তার মাকে বাস থেকে নামিয়ে দেয় অন্যান্য যাত্রীরা।

আজ ১২ মে, মঙ্গলবার ভোরে জয়পুরহাট-বগুড়া সড়কের হিচমি নামক স্থানে হৃদয় বিদারক এ ঘটনা ঘটে। মৃ’ত মিজানুর নওগাঁর ধামুরইরহাট উপজেলার জাহানপুর গ্রামের আতোয়ার হোসেনের ছেলে।

নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলা জাহানপুরের বাসিন্দা মিজানুর রহমান গেল ৩/৪ দিন হলো ঢাকায় গেছেন কোমরের ব্যথা নিয়ে চিকিৎসা করাতে। সেখানে একটি গার্মেন্টে চাকরি করেন তার স্ত্রী। চিকিৎসা শেষে মাকে নিয়ে ঢাকার বিশ মাইল থেকে ২ হাজার টাকা চুক্তিতে সোমবার রাতে তিনি আহাদ পরিবহনের একটি বাসে করে জয়পুরহাটে রওয়ানা দেয়।

পথিমধ্যে মিজানুর রহমান মা’রা যান। তার মৃ”ত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর রাতের অন্ধকারেই জয়পুরহাট-বগুড়া মহাসড়কের হিচমী বাজারে মাসহ ছেলের লা’শটি ফেলে দিয়ে চলে যায় আহাদ পরিবহনের চালক ও হেলপার। এরপরই স্থানীয়রা জানতে পারলে এলাকায় আ’ত’ঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

নি’হ’ত মিজানুরের মা জানান, দুই হাজার টাকা চুক্তিতে ঢাকার বিশ মাইল থেকে রাত ৯টায় আহাদ পরিবহনে রওয়ানা দেই। পথে আমার ছেলে মা’রা গেলে চালক ও হেলপার রাত ৩টা ২০ মিনিটে আমার ছেলের ম’র’দেহ ও আমাকে এখানে নামিয়ে দেয়। এ সময় ‘আহাদ এন্টার প্রাইজ, সিট নং সি ফোর’ লেখা একটি টিকিটও স্থানীয় প্রশাসন দেখায় নি’হ’ত মিজানুরের মা।

স্থানীয় কয়েকজন দোকানদার বলেন, রাতে তারা ডিউটি করার সময় সেহরি খেতে যায়। পরে ৩টা ২০ মিনিটের সময়ে তারা এসে দেখেন এক মাসহ তার সন্তানের ম’র’দেহটি রাস্তার ধারে পড়ে আছে।

এদিকে দেশে চলমান করোনা পরিস্থিতিতে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ঢাকা থেকে কিভাবে একটি গণপরিবহন জয়পুরহাটে আসলো এমন প্রশ্নই এখন সচেতন মহলের। এ ব্যাপারে জয়পুরহাট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদ খ.ম আব্দুর রহমান রনি জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে কিভাবে একটি গণপরিবহন জয়পুরহাটে প্রবেশ করলো-এমন প্রশ্নের উত্তরে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহরিয়ার খান জানান, যদি বলি এটি ঢাকা কেন্দ্রিক সমস্যা। এরপর বলব, হাইওয়ে পুলিশ কী করলো? ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা গাড়িগুলো শহরে না ঢুকে বাইপাস হয়ে হিলিতে যায়। যে কারণে পুলিশের অনুপস্থিতিতে গত রাতে এই অপ্রত্যাশিত ঘটনাটি ঘটেছে।

এ বিষয়ে জয়পুরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জানান, নি’হ’তের মায়ের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মৃ’ত ব্যক্তিটির শরীরে কোনো ধরনের করোনার উপসর্গ ছিল না। তবে এরপরও খবর পেয়ে স্থানীয় মেডিক্যাল টিম তার নমুনা সংগ্রহ করেছে। এছাড়াও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় ধামইরহাট উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করে ম’র’দেহটি দাফ’নের জন্য সব ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

জয়পুরহাটের সিভিল সার্জন (সিএস) সেলিম মিয়া বলেন, নি’হ’ত ব্যক্তির শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ইতোমধ্যেই ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। জয়পুরহাট জেলায় এ পর্যন্ত করোনা সন্দেহে ৩ হাজার ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করার পর ৫৬ জনের পজেটিভ এসেছে। যার মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ৫ জনকে বাড়ি পাঠানো হয়েছে।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles

Back to top button
Close
%d bloggers like this: